প্রকৃত অর্থে জিয়াউর রহমানের বিপুল পরিমান অবদান আছে মুক্তিযুদ্ধে : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ড.
ইউনূস যখন সরকারে ছিলেন, আমেরিকায়
সফরে গিয়ে
বলেছিলেন, গণঅভ্যুত্থান একদিনে হয় নাই
এর পেছনে বহুদিনের পরিকল্পনা ছিলো,
আর রিসেট বাটুন
চাপার কথা বলে সব ইতিহাস
মুছে ফেলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন
এমন প্রশ্নের উত্তরে কাদের
সিদ্দিকী বলেছেন,
দেশে
যারা ক্ষমতাবান তারা আমাদেরকে নানাভাবে চালাবার চেষ্টা করে। তাদের নানা পরিকল্পনা থাকে। তবে বহির্বিশ্বের অধ্যাপক ইউনূসকে সরকারে আনার বহুদিনের ইচ্ছে ছিল। চেষ্টা ছিল এবং সেই চেষ্টা বাস্তবায়িত করেছে এবং এটা সত্য কথা যে টা তো
একদিনের ব্যাপার না এটা অবশ্যই
বহুদিনের চেষ্টার ফসল।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন, ভাস্কর্য,
বিভিন্ন স্থাপনা নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠানের নাম বদলানো হয়েছে। আর ১৩৩ টা
অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আসলে কি তিনি এই
ভাস্কর্য ভাঙতে পারেন কিনা আর
১৩৩ অধ্যাদেশ তিনি জারি করতে পারেন কিনা অন্তর্বর্তী সরকার।?
অন্তর্বর্তী
সরকার হয়েছে নিশ্চয়ই কমবেশি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু ভাস্কর্য ভাঙ্গা সভ্যতার লক্ষণ নয়। অতীতে যারা ভাস্কর্য ভেঙেছে তারাই ধ্বংস হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূসও কিন্তু মানুষের যে আস্থা, মানুষের
যে বিশ্বাস তার প্রতি ছিল এখন তার প্রতি কিন্তু বিন্দুমাত্র আমার দেশের মানুষের কোন বিশ্বাস আস্থা নেই। এবং তিনি তার জীবনদ্দশায় তিনি তাকে তার কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর
হত্যার প্রতিবাদকারীদের দুষ্কৃতিকারী বলে চিহ্নিত করা হয়েছেছিল
মোশতাক সরকার এর উত্তরে
কাদের সিদ্দিকী বলেন,
আসলে
এটা আমার কাছে কোন বিবেচনার বিষয় না। কোন মুক্তিযোদ্ধারা তোমাদেরকে বলে সেটা আমি জানিনা। বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে বেশি মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করে নাই। যারা অংশগ্রহণ করছিলেন তারা আবার নতুন মানুষ। তাদের মধ্যে সীমান্ত এলাকার আদিবাসী বেশি। হ্যা এটা সত্য। খন্দকার মোশতাক দুষ্কৃতিকারী বলেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মেয়েও কিন্তু ১৫ বছর শেখ
হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন। তারা সেখান থেকে কাগজ কলমে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদকারীদের তারা জাতির কৃতিসন্তান একথা আনুষ্ঠানিকভাবে বলে মুখে অনেক জায়গায় বলবার চেষ্টা করেছেন এবং সেই কৃতি সন্তানদেরকেও নাস্তানাবুদ করবার চেষ্টা করেছেন। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
স্বাধীনতা
বিরোধী যারা ছিলেন তারা আগে কখনো
শহীদ মিনারে ফুল কিংবা শ্রদ্ধা জানাননি, এখন শহিদ মিনারে ফুল-শ্রদ্ধা
জানাচ্ছে, তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা মানায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবীর কাদের
সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন।
দেশ
স্বাধীন হলে সেই দেশের নাগরিক সবার মুখেই দেশের জয়গান মানায়। বাংলাদেশই একমাত্র ব্যতিক্রমী দেশ যে স্বাধীন দেশে
বাস করে স্বাধীনতার বিরোধীতা করছে এবং তোমাদেরকে স্পষ্ট করে বলি আমি আল্লাহ রাসূলকে যতটা মানি তাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস; যতক্ষণ পবিত্র মনে স্বাধীনতা বিরোধীরা স্বাধীনতাকে গ্রহণ করবে না ততক্ষণ তারা
বাংলাদেশের মানুষের অন্তর পাবে না।
ঋণখেলাপি ছিলেন,
তারা এখন সংসদে, নির্বাচিত
সংসদ সদস্যরা অনেকেই ঋণ খিলাপী আছেন।
তাদের মধ্যেও একজন মন্ত্রী হয়েছেন তিনটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন যেখানে ঋণ খেলাপি থাকলে
সংসদ তো দূরের কথা
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই যায় না! এ বিষয়টা আপনি
কিভাবে দেখেন এর উত্তরে
কাদের সিদ্দিকী বলেন,
আসলে
এটা নৈতিকতার অবক্ষয়, এটা হওয়া উচিত ছিল না এবং আমাদের
দেশে নীতি-নৈতিকতা এত দুর্বল হয়ে
পড়েছে যে আমরা অন্যকে
খারাপ বলতে যত উৎসাহ করি
নিজের সেই খারাপগুলোকে আমরা ওইভাবে লুকিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি এটা কোন সততা নয় এবং এটা একটা অসৎ চিন্তার ফসল।
স্বাধীনতার
ঘোষক জিয়াউর রহমান! কিন্তু সংবিধানে দেখতে পাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনি হচ্ছে সংবিধান অনুযায়ী হচ্ছে এই স্বাধীনতার ঘোষক।
স্বাধীনতার এত বছর পরেও
কে আসলে স্বাধীনতার ঘোষক এই বিষয়টা নিয়ে
দুই দলের যে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক
চলছে এব্যাপরে বঙ্গবীর বলেন,
আসলে সত্যকে স্বীকার করা মানবিক ধর্ম মানুষের সত্য স্বীকার করার সাহস থাকা দরকার সত্যের চাইতে স্পষ্ট বা বড় কোন
কিছু নেই। আজকে আমি যদি বলি যে আমি বাংলাদেশের
নেতা কেউ কি সেটা মানবে?
আর সেটা কি হবে? জিয়াউর
রহমান যে সময় ঘোষণা
দিয়েছেন সে সময় ছিল
যুদ্ধকালীন একটি অবস্থা।
সৈনিকদের
প্রতি ছিল আমাদের অগাধ একটি ধারণা সৈনিকদের
সেই সময় অন্য সাধারণ
মানুষের চেয়ে গুরুত্ব
বেশি ছিল।আওয়ামী লীগ
যেমনি বলে জিয়াউর রহমান কেউ না! কিছু না! এটা যেমন সত্য না! বিএনপির লোকেরা যেমন বলেন যে জিয়াউর রহমানই
সব স্বাধীনতার স্থপতি, স্বাধীনতার ঘোষক। তবে ক্ষেত্র
প্রস্তুত না হলে কোন
ঘোষণায় কোন কাজ হয় না প্রকৃত অর্থেই
জিয়াউর রহমানের বিপুল অবদান আছে।
বিপুল পরিমাণে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার ঘোষণা সেই সময় জাতিকে উদ্বেলিত করেছিল। উদ্বুদ্ধ করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধের
সময় প্রতিদিন 'স্বাধীন বাংলা বেতারে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়াউর রহমানের কন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা। প্রতিদিন বাজানো হয়েছে, শোনানো হয়েছে মানুষকে। এবং মানুষ সেটা শুনে সত্যিকার অর্থেই উদ্বেলিত হয়েছে, উৎসাহিত হয়েছে।
সেই অর্থে নিশ্চয়ই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক।
যেমনে
রেডিও টিভিতে নানান অনুষ্ঠানে অহরহ মানুষ ঘোষণা করে সেই অর্থে জিয়াউর রহমান অবশ্যই ঘোষক।
আমি
কিন্তু জিয়াউর রহমানকে যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের সময় একদম যখন খুব কঠিন সময় সেই সময়ে তার ঘোষণা এসেছে সাধারণ ঘোষকদের চাইতে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব তার সেই ঘোষণায়।
তার
ঘোষণা যে কোন কাজে
আসে নাই এটা বলা মিথ্যে, তিনি স্বাধীনতার ঘোষক তার ঘোষণায় আমরা স্বাধীন হয়েছি এটা তার চাইতেও মিথ্যে।
কিন্তু জিয়াউর রহমানের সেই কন্ঠে ঘোষণা জাতিকে উদ্বেলিত করেছে স্বাধীনতায় কাজে লেগেছে।
অপর
এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবীর
বলেন,
আমি কি করেছি আমি
নিজেই জানিনা। ছোটবেলায় আমি খুব দস্যি ছিলাম। বোধহীন ছিলাম, নির্বোধ ছিলাম। যখন থেকে বোধ জাগ্রত হয়েছে। তখন থেকে আমার মনে হয়েছে যে নিজের জন্যে
নয়। মানুষের জন্ম হয় অন্যের জন্যে।
একটা
মানুষেরও যদি আমি সার্বিকভাবে কাজে লাগতে পারি তাহলে আমি মনে করি আমার মানুষ জন্ম সার্থক হয়েছে।
আমি
সমস্ত সময় অন্যকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর কথা চিন্তা করি। এছাড়া আমার কোন চিন্তা নাই।
গণঅভ্যুত্থানের আগে আপনি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি করতেন সেই লেখার বিপুল পাঠক ছিল এখন কেনো লেখেন না? এটার পিছনে কোন কারণ কী? ইউনূস
সরকারের কোন কারণ আছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে
কাদের সিদ্দিকী বলেন।
না এখানে ইউনূস
সরকারের কোন কারণ আছে কিনা বলবো না। আমি এখন আমার পুরানো লেখাকে মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যে বইয়ের আকারে তুলে দেওয়ার জন্য যখন ঝাড়াই বাছাই করি তখন দেখি শেখ হাসিনাকে নিয়ে অনেক অপ্রিয় সত্য কথা লেখাগুলোতে আছে। কিন্তু এখন সেই সত্য বলা যায় না।
যেখানে মানুষ কথা বলতে পারে না প্রাণ খুলে
সেখানে বিপদ পায়ে পায়ে থাকে পদে পদে থাকে সেইজন্যে মানুষের বলার অধিকার লেখার অধিকার উন্মুক্ত থাকা উচিত এবং এই দিনগুলো ভালো
যায় নাই শারীরিকভাবে অতটা ভালো লাগে না উদ্যম পাই
না মাঝখানে স্ত্রী চলে গেছে! স্ত্রী যে কি জিনিস
ছেলেমেয়েরা মা বাবা মা
থাকতে হয়তো বোঝে না বাবা মা
কি জিনিস অনেক স্বামীরাও বোঝে না।
স্ত্রী
না থাকায় বেশ খারাপ লাগে অসহায় লাগে সেজন্য কম লেখা তবুও
লেখা বন্ধ হয়নি পত্রিকাতে দেওয়া লেখা কিছুটা বন্ধ হয়েছে তো আমি অল্পদিনের
মধ্যেই পত্রিকাতেও লেখালেখি করব।
যে
সময় আছে মানুষের জন্য কিছু বলে যাওয়া দরকর।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন যারা করেছে ইদানিং আমরা গণমাধ্যমে দেখতেছি যে অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হয়ে তারাই মৌসুম বিরোধী আন্দোলন যারা করেছে তারাই বেশি বৈষম্য এবং ইউনূস সরকারের আমলে আমরা দেখছি যে তিনি বেশ কিছু এনজিওর প্রতিনিধি নিয়ে পরিষদ গঠন করেছিলেন এটাকে আসলে সরকার বলা যেত না শুধু পরিষদ এর উত্তরে কাদের সিদ্দিকী বলেন।
একটা জিনিস বলব আগেই বলেছি যে অধ্যাপক ইউনুস
সম্পর্কে আমাদের যে বিরাট ধারণা
ছিল আসলে অত বড় মাপের
মানুষ তিনি নন।
তার
রাজনীতি সমাজনীতি অর্থনীতি এ সমস্তর উপরে
কতখানি দক্ষ আছে জ্ঞান আছে এটা উনি যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান না হতেন তাহলে
বোঝা যেত না। এই অর্থে বলা
যাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোন গুণসম্পন্ন সরকার ছিল না।
রাজনীতিতে উনার একজন উপজেলা পর্যায়ের নেতার সমান দক্ষতা যোগ্যতাও আমরা লক্ষ্য করি নাই। সেইজন্যে পরবর্তীতে উনিও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
উনার সংগঠন এনজিওগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিশেষ করে তার যে গ্রামীণ ব্যাংক
সেটার মানুষ যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে- হয়, নির্যাতিত হচ্ছে এগুলো একটা বিষফোঁড়া হয়ে বেড়িয়ে আসবে। তো সেইজন্যে প্রকৃত
অর্থে একটা দেশকে টেনে নিয়ে যাওয়ার মত অধ্যাপক ইউনুসের
সরকারের কোন যোগ্যতা দক্ষতা কোন কিছুই ছিল না।
গণভোটের বিষয়ে বঙ্গবীর
বলেন,
বাংলাদেশের
স্বাধীনতাটা এসেছিল সম্পূর্ণভাবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যে ওরকম একটা জাতীয় আকাঙ্ক্ষা কখনো তৈরি হয়নি এটা সত্ত্বেও বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে আমার যতটুকু জ্ঞান বুদ্ধি আমি যতটা লেখাপড়া করেছি তাতে পৃথিবীর কোথাও জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে কোথাও হয় নাই এবং এই গণভোটে
৬৮ শতাংশ যে
বলছে এই ভোটটা গুনেছে
কে এটার জন্যে রিটার্নিং অফিসার প্রিজাইডিং অফিসার এবং এজেন্ট সেখানে কে ছিল আসলে
৬৮% ভোট জাতীয় ভোটেই পড়ে নাই।
তাহলে গণভোটে পড়বে কেন? আমি তো হ্যা-নাতে ভোট দিইনি। তাহলে আমার ভোট তো বাদ পড়ার কথা।এটা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।
যারা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন, তাদের এই আন্দোলনের সুফল
এবং আন্দোলনের সুনাম হাজার বছর না হোক শতশত
বছর থাকার কথা ছিল। তারা মানুষের ভালোমন্দের দিকে খুব একটা তাকাচ্ছে না বলে অল্পদিনেই
তাদের যে সুনাম হওয়ার
কথা ছিল তা বদনামে পরিণত
হয়েছে।
দুর্নামে
পরিণত হয়েছে। অথচ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটা গুণ আছে। তার মর্যাদা থাকা উচিত এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন না হলে আজকে
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতেন না এবং অনির্বাচিত
সরকারের চাইতে নির্বাচিত সবচাইতে খারাপ সরকারও ভালো বলে যোগ
করেন তিনি।
