নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মায়াবী হাসি, আন্তরিক ব্যবহার আর রান্নার হাতের জাদু এই তিনের সমন্বয়ে মোমো বিক্রি করে ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের নজর কেড়েছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের নারী উদ্যোক্তা লিজা। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন পরিচিত মোমো আপু নামে।
মির্জাপুরের কুমুদিনী লৌহজং নদীর পাড়ের কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাট এলাকায় খোলা ছাদের নিচে নিজের উদ্যোগে মোমো তৈরি ও বিক্রি করছেন লিজা। প্রতিদিন বিকেল হলেই তাঁর তৈরি মোমোর স্বাদ নিতে সেখানে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। মোমোর পাশাপাশি চটপটি ও ফুচকাও বিক্রি করেন তিনি। তবে মোমোকেই নিজের সিগনেচার আইটেম হিসেবে তুলে ধরেছেন এই উদ্যোক্তা।
নিজের ব্যবসার পাশাপাশি লিজা তাঁর কর্মকাণ্ড ও মোমো তৈরির বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেন। এসব ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। এর ফলে মির্জাপুরের গণ্ডি পেরিয়ে অনলাইনেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, কোনো ব্যবসাই ছোট নয়। সততা, পরিশ্রম, ভদ্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে ছোট উদ্যোগও একসময় বড় সাফল্যের পথ তৈরি করতে পারে। লিজার উদ্যোগ অন্য নারীদেরও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিজার ব্যবসায়িক প্রচারণা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ তাঁর ভিডিওর উপস্থাপনা ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি নিয়ে সমালোচনা করছেন। সমালোচনাকারীদের মতে, ব্যবসা করা সম্মানের এবং বৈধ উপার্জনের একটি মাধ্যম। তবে ব্যবসার প্রচারণার সময় সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, শালীনতা বজায় রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করলে তা আরও ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে।
অন্যদিকে, লিজার সমর্থকদের বক্তব্য একজন নারী নিজের পরিশ্রম ও মেধা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন, এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁদের মতে, একজন উদ্যোক্তার কাজ ও পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করা উচিত; একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উপস্থাপনার ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা দরকার।
সমাজকে আরও ইতিবাচক ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হলে কাজের ধরন নয়, বরং কাজের প্রতি মানুষের সততা, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাটপাড়ে লিজার এই ছোট্ট উদ্যোগ তাই শুধু মোমো বিক্রির গল্প নয়; এটি একজন নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা এবং উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প।