Showing posts with label ঘাটাইল. Show all posts
Showing posts with label ঘাটাইল. Show all posts

Thursday, March 5, 2026

ভালোবাসার টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলে এসে স্কুল শিক্ষার্থীকে বিয়ে করলেন যুবক

ভালোবাসার টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলে এসে স্কুল শিক্ষার্থীকে বিয়ে করলেন যুবক

 


 

 


নিজস্বপ্রতিবেদকঃ

 

ভালোবাসার টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এসে মায়া আক্তার নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন এক যুবক।

 

 

গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলায় পাচটিকরি গ্রামে ছুটে আসেন চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছে মায়ার বাড়িতে।

 

 

জানা যায়,উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল মালেকের নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে মায়ার সঙ্গে এক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমউইচ্যাট’-এর মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপ গ্রামের জংজিয়া মামুসার। গড়ে উঠে বন্ধুত্ব। কিছুদিন না যেতেই সে সম্পর্ক রূপ নেয় প্রেমে। এরমধ্যে মায়ার বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকে। বিষয়টি জানানো হয় মামুসাকে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসার টানে চলে আসে পাঁচটিকরি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। বিদেশি নাগরিককে দেখতে আশপাশের মানুষজন মায়াদের বাড়িতে ভিড় করেন। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কাজী ডেকে মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এদিকে বিয়ের পর থেকে মামুসা স্ত্রী মায়াকে নিয়ে হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রামের মেঠোপথ রাস্তাঘাট দিয়ে। খাচ্ছেন মাছ, মাংস, সবজিসহ সবধরনের দেশীয় খাবার। স্বামীর সাথে চীনে যেতে ইচ্ছুক স্ত্রী মায়াও। পাসপোর্ট, ভিসা অন্যান্য কার্যক্রম শেষ করে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে মায়াকে নিয়ে চলে গেছে।

এদিকে প্রথমে বিষয়টি মায়া পরিবার মেনে না নিলেও পরে নিয়তির কাছে ছেড়ে দিয়ে সব কিছু মেনে নিয়েছেন। রাজিও হয়েছেন মেয়েকে চীন পাঠাতে।

 

 

 

মায়া বলেন,উইচ্যাটের মাধ্যমে তার সাথে আমার পরিচয়। তার সাথে কথা হয় পরে আমাকে সে বলে আমি তোমাকে পছন্দ করি,তোমাকে বিয়ে করতে চাই।পরে আমি তাকে বলছি আমাকে বিয়ে করতে হলে তো বাংলাদেশে আসতে হবে।বলছে বাংলাদেশে আসব।আমি বিশ্বাস করতে পারি নাই।তারপরও তার সাথে আমি কথা বলছি।

 

 

মায়া আরও বলেন,আমি কয়েকদিন কথা বলা বাদ দিছিলাম।পরে অনলাইনে ঢুকে দেখি এসএমএস করছে।বলতেছে তুমি এতো দিন কোথায় ছিল।পরে আমি বলছি আমি তোমার সাথে কথা বলতে পারব না।বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেছে।পরে রাগারাগি করছে আমাকে বিয়ে করতে চাও,না পরিবার যাকে পছন্দ করবে তাকে বিয়ে করতে চাও।আমি বলছি এখন যে আছে তাকেই বিয়ে করতে চাই।পরে অনলাইনে টিকেট কাটছে বিশ্বাস করি নাই।পরে বাংলাদেশে এসে বিমানবন্দরে এক ভাইরে দিয়ে কথা বলছে তখন বিশ্বাস করছি।তখন অনেক ভয় পেয়ে গেছিলাম আব্বুরে জানাতে পারি নাই মাকে বলছি।মা আব্বুরে বলে দিছে পরে রাগারাগি করছে। সে বাড়িতে আসলে আমাদের বিয়ে হয়।আমি তার সাথে চলে যাব।

 

 

মায়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন,

মোবাইলের মাধ্যমে সম্পর্ক হয়েছে।বিমানবন্দর ১২-১৩ দিন হয় আসছিল।আমি রাগ করছিআমার একটি মেয়েই আমি দেবো না।পরে আমার মেয়ে বলতেছে তুমি যদি নাও দাও আমি চলে যাব।যদি দাও তাহলে তোমাদের জন্য ভালো হবে।আমি কয়েক দিন রাখিও নাই,জায়গাও দেয় নাই।মেয়ের কথায় আর থাকতে পারলাম না।পরে আমি নিয়ে আসি।এখানে নিয়ে আসার পর কাজী নিয়ে এসে বিয়ে পড়াইছি।লোকজন সাথে নিয়ে বিয়ে দিছি।সে যদি নিয়ে যেতে চাই, আমি দিয়ে দিব।বিয়ে দিয়েছি রাখার জন্য না।আমি মনে করছি,আমার একটি মেয়ে ছিল,এখন নাই।যদি নিয়ে যাই - বছর পরেও আসতে পারে আবার  আমার মেয়ে ফিরে নাও আসতে পারে।এটা আমি ভাগ্যের ওপরে ছেরে দিছি।মেয়েরা বুঝায়ছি,মেয়ে তারে ছাড়া কিছু বুঝে না।

 

Wednesday, August 27, 2025

টাঙ্গাইলে স্বর্ণকারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মুলহোতাসহ গ্রেফতার ৭

টাঙ্গাইলে স্বর্ণকারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মুলহোতাসহ গ্রেফতার ৭

 



  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ



টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চাঞ্চল্যকর স্বর্ণকারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতাসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। 

বুধবার(২৭ আগস্ট) দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। 


গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা মো. সোহাগ মন্ডল, মিন্টু, মোশাররফ, জসিম, আমিনুল, আনোয়ার, ময়নাল।


পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন,গেলো ১৮ আগস্ট ভোর রাতে ঘাটাইলের চকপাকুটিয়ার স্বর্ণকার অমল বনিকের বসতবাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত অমল বণিকের মা কৃষ্ণা রাণীদ্বয়কে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, পিতলের প্রতিমা ও মোবাইল ফোন সেটসহ ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুণ্ঠন করে। ডাকাতির সময় অমল বাঁধা প্রদান করলে ডাকাতরা তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে বাদির বাম হাতের কব্জির উপর পোঁচ মেরে রক্তাক্ত কাঁটা জখম করে। ডাকাতির সময় এলাকার লোকজন অমলের ডাক চিৎকারে টের পেলে ডাকাতরা হিন্দু বাড়িতে পটকার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। 

এই সংক্রান্তে অমর বনিক বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে ২৪ আগস্ট রাতে কালিয়াকৈরের সফিপুর থেকে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য মো. সোহাগ মন্ডলকে গ্রেফতার করে এবং তার হেফাজত হতে অত্র মামলার ঘটনায় লুন্ঠিত ১টি মোবাইল ফোন সেট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করিলে নিজেকে জড়িয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও লুষ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য একাধারে অভিযান পরিচালনা করার নিদের্শনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আসামী ও গুপ্তচর হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অত্র ডাকাতির ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড মিন্টুকে মঙ্গলবার নেত্রকোনার কেন্দুয়া গ্রেফতার করা হয়। মিন্টুর দেখানো মতে অন্যান্য আসামীদের বিভিন্ন সময়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান হতে গ্রেফতার করা হয় এবং লুণ্ঠিত মালামাল স্বর্ণ ও রুপা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন সময়ে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করে আসছে। তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল, ৫ রতি স্বর্ণ ও ৩৪ ভরি রূপা উদ্ধার করা হয়।

Saturday, August 16, 2025

যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন জয় বাংলা থাকবে:কাদের সিদ্দিকী

যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন জয় বাংলা থাকবে:কাদের সিদ্দিকী

 



নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ




কৃষক শ্রমিক-জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন,শেখ মুজিব আর শেখ হাসিনাকে এক করে দেখবেন না।মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ, শেখ হাসিনাকে এক করে দেখবেন না।যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন জয় বাংলা থাকবে।ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবে।বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পিতা থাকবে।

শনিবার(১৬ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত মাকড়াই দিবস উপলক্ষে কাদেরিয়া বাহিনী মুক্তিযোদ্ধার মহাসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর মাথায় প্রস্রাব করা আমার মাথায় প্রস্রাব হয় নাই। স্বাধীনতার মাথায় প্রস্রাব করা হয় নাই জিয়াউর রহমানের মাথায় প্রস্রাব করা হয় নাই। বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার মাথায় প্রস্রাব করা হয়েছে। এর বিচার চাই, বিচার চাই, বিচার চাই৷ বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যারা ভেঙেছে, মনে রাখবেন তাদেরও বাড়ি ঘর রয়েছে। তাদেরও কবর রয়েছে, তাদেরও স্মৃতিসংঘ রয়েছে। তাদের কবর হাতে নিয়ে ঘুরতে পারবেন না। বাড়িঘর হাতে নিয়ে যেতে পারবেন না। তাই সীমা অতিক্রম করবেন না।'

তিনি এনসিপির নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'কে একজন বলেছেন (নাহিদ ইসলাম) বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা নন। বঙ্গবন্ধু যদি জাতির পিতা না হন, তাহলে আপনার পিতা কে? কোন সন্তানের পিতা না থাকলে সে সন্তান সম্মানী সন্তান হয় না, সে সন্তান কুলাঙ্গার হয়। একটু ভেবে চিন্তে বলবেন। 




কাদের সিদ্দিক বলেন,বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন,শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছেন।আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সমর্থন করি।কারণ শেখ হাসিনার পতন আল্লাহ তরফ থেকে হয়েছে।অন্যায়ের জন্য হয়েছে।আপনাদের মুরাদে শেখ হাসিনার পতন হয় নাই।জনগণ রাস্তা নেমেছিল বলে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে।কিন্তু আপনারা যদি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অন্যায় করতে যান।আমি কাদের সিদ্দিকী বেঁচে থাকতে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবো।আইন অনুযায়ী তার বিচার করুণ।তাকে শাস্তি দিন।মাথা পেতে নেব।



কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন,শহীদ স্মৃতি উদ্যানে জয় বাংলা শ্লোগান দেওয়ার কারণে কাকে কাকে গ্রেপ্তার করেছিলেন।এই মাকড়াইয়ে এখানে দাঁড়িয়ে বলছি,আল্লাহ যদি দুই বছর বাঁচিয়ে রাখে, যারা গ্রেপ্তার করছে।তাদেরকে গ্রেপ্তার করিয়ে চৌদ্দ শিকের ভিতরে দিয়ে আল্লাহকে সাক্ষী রাখলাম।



তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক ইউনূসকে আমি সম্মান করতাম। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভেঙেছে আপনি দেখেছেন, আপনার গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে সমস্ত সরকার বাংলাদেশের অসংখ্য  মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল, আমি কাদের সিদ্দিকী না দাঁড়ালে আপনার অর্ধেক গ্রামীণ ব্যাংক মাটির নিচে চলে যেত। আপনার এক বছরের শাসনে সেটি আর হৃদয় থেকে নিতে পারছি না। আপনাকে আবার আমি অনুরোধ করছি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না দিলে এবং নির্বাচন করতে না পারলে শেখ হাসিনার চাইতে আপনার পরিণতি ১০ গুণ খারাপ হবে।



কাদের সিদ্দিকী বলেন,মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় যারা জুতার মালা দিয়েছেন।আমি সেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেকের গলায় ফুলের মালা পড়িয়ে দেব ইনশাআল্লাহ।




অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সাবেক জেলা কমান্ডার  ফজলুর হক বীরপ্রতীকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী,ঘাটাইল উপজেলার সাবেক কমান্ডার এমদাদুল হক খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন, হুমায়ুন বাংগাল,ঘাটাইল উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান প্রমুখ। 

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষক জনতার লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 


Friday, July 25, 2025

৩০ বছর ধরে শিকলে বন্দি সন্তানকে ভিক্ষা করে খাওয়াচ্ছেন মা

৩০ বছর ধরে শিকলে বন্দি সন্তানকে ভিক্ষা করে খাওয়াচ্ছেন মা

 



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ


৩০ বছর ধরে পায়ে লোহার শিকলে বন্দি জীবন পার করছেন ৩৭ বছরের যুবক সাইফুল।মানসিক ভারসাম্যহীন সাইফুলকে নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন মা রহিমা বেগম। রহিমা বেগমের স্বামী বহর আলী প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন।রহিমা বেগম স্বামীসহ জমিজমা হারিয়ে পথে-ঘাটে ভিক্ষা করে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন।ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার ধারিয়াল গ্রামের। 



মানসিক ভারসাম্যহীন সাইফুল ঘাটাইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ধারিয়াল গ্রামের মৃত বহর আলী ছেলে।অভাবের সংসারে ১৯৮৮ সালে সাইফুল জন্মগ্রহন করেন। 



সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে সাইফুলকে।কখনো দাঁড়িয়ে আবার কখনো বসে সময় কাটছে তাঁর।বারান্দায় মাটিতেই বিছানা পাতানো রয়েছে।সেখানেই শুয়ে থাকে সে। সাইফুলকে শিকল থেকে খুলে দিলেই মানুষকে কামড় দিতে চাই। যাকে সামনে পায় তাকে ঝাপটে ধরে। সুযোগ পেলে শরীরের কাপড় খুলে ঘুরে বেড়ায় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




সাইফুলের মা রহিমা বেগম বলেন, জন্মের পর থেকে মানুষ দেখলে চেয়ে থাকতো। ছোটবেলা থেকে কথা ঠিকমতো বলতে পারে না।৭ বছর থেকে মানুষের দিকে শুধু চেয়ে থাকা নয়, খামচি ও কামড় দেয়ার চেষ্টা করতো।ছোটবেলায় অসুস্থতার লক্ষণ আমরা বুঝতে পারিনি। 




তিনি বলেন, একসময় এলাকাবাসী আচরনে ভয় পেতে শুরু করে।যখন ৮ বছর বয়স তখন 
পায়ে লোহার শিকল পড়িয়ে দেয়া হয়। যা এখন পর্যন্ত চলছে। শিকল খুলে দিলেই বড় বড় চোখ করে মানুষের দিকে এগিয়ে যায়।ছোটবেলায় বিভিন্ন ডাক্তার কবিরাজের পিছনে ঘুরেছি চিকিৎসা করাতে পারেননি। ডাক্তার কবিরাজ রোগ ধরতে ব্যর্থ হওয়ায়
পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর চিন্তা করেছিলাম। মানসিক হাসপাতালে কে
নিয়ে যাবে সেই সিন্ধান্তে মানসিক হাসপাতালে নেয়া হয়নি।আমার স্বামীটা ২০ বছর আগে মারা গেছে।
 



রহিমা বেগম বলেন, পথে ঘাটে ভিক্ষা করে ছেলেকে খাওয়াচ্ছি।সরকারের দেয়া ঘরে আছি। সরকার থেকে ছেলের নামে ২৫০০ টাকা ও আমার নামে ১৮০০ টাকা ভাতা পেয়ে তা দিয়ে সংসার চলে না। যে কারনে চিকিৎসা বাদ দিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে বেঁচে আছি। 



স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম বলেন, ছোটবেলা থেকে সাইফুল মানসিক ভারসাম্যহীন। তিন-চার বছর ধরে তার পাগলামি বেড়ে গেছে।শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে।ঘরে বৃদ্ধ মা তার সেবা যত্ন করতেছে।গ্রামের মানুষ যতটুকু পারছে করতেছে।




ধারিয়াল জামে মসজিদের সেক্রেটারী সুমন আল মামুন বলেন, সাইফুল ৩০ বছর ধরে শিকলে বন্দি রয়েছে।সে অসহায় জীবনযাপন করছে।তার মা পথে ঘাটে ভিক্ষা করে কোন রকম আহার তার মুখে তোলে দেয়।আমরা বিভিন্ন ভাবে তাকে সাহায্য করেছি।সাইফুলকে শিকলে থেকে খুলে দিলে পাগলামী শুরু করে দেয়।ছোট শিশুরা তাকে দেখে ভয় পাই।এছাড়াও ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুর করে।যে কারনে বাধ্য হয়ে মা তাকে শিখলে বেঁধে রেখেছেন।সরকার যদি থাকার ব্যবস্থা ও কোন আর্থিক অনুদান দিয়ে তাকে সহযোগিতা করতো তাহলে আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।






ঘাটাইল পৌরসভার ৬নং বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জালাল হোসেন বলেন,আমাদের সমবয়সী হবে সাইফুল।ছোটবেলা থেকে
মানসিক সমস্যা। দারিদ্রতার কারণে সঠিক সময়ে সাইফুলের চিকিৎসা করা হয়নি। সাইফুল বড় হলে রোগটি প্রকট
আকার ধারন করে।শিকল থেকে ছেড়ে দিলেই মানুষকে কামড় দিতে যায়। যাকে সামনে পায়
তাকে ঝাপটে ধরে। সুযোগ পেলে শরীরের কাপড় খুলে ঘুরে বেড়ায়। এইজন্য এলাকাবাসী
বাধ্য হয়ে শিকলে বেঁধে রেখেছেন।এছাড়া অন্য উপায় তাদের হাতে নাই।



ঘাটাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান সরকার বলেন,সাইফুল ও তার মার বিষয়টি জেনেছি।তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা ও তার মাকে ভাতা করে দিয়েছি।আমাদের যতটুকু সুযোগ ছিল করা হয়েছে। 




উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন,সাইফুল ইতিমধ্যে ভাতার আওতায় রয়েছেন।ভাতা ভুক্ত থাকার পরেও যদি তার চলতে কষ্ট হয়।তাহলে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই তার পাশে দাঁড়াবে। তার পূর্ণবাসন করার জন্য যা যা করা দরকার সেগুলো আমরা করব।আমি ইতিমধ্যে জেনেছি তার মা ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত।আমাদের কাছে তার সহযোগিতার সুযোগ আছে।আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে অবশ্যই তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। 







Saturday, June 21, 2025

টাঙ্গাইলে বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যার পর স্বর্ণালংকার লুট

টাঙ্গাইলে বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যার পর স্বর্ণালংকার লুট

 




নিজস্ব প্রতিবেদকঃ


টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হনুফা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যার পর লুট করা হয়েছে স্বর্ণালংকার। 



শনিবার (২১ জুন) সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।শুক্রবার(২০ জুন) রাতে উপজেলার মানাজী শিকদার বাড়ি গ্রামে এঘটনা ঘটে। 



নিহত হনুফা ওই গ্রামের আব্দুল গফুরের স্ত্রী। 


নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন হনুফা বেগম। শনিবার ভোরে ঘর থেকে বের না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ নিতে যান। এ সময় ঘরের দরজা ভিতর থেকে খোলা ছিল। 


পরে ঘরে গিয়ে বিছানায় তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। আনুমানিক তিন ভরি স্বর্ণ ছিল হনুফার গলায়। সেই স্বর্ণের চেইনটি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। 


ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল করা হয়েছে। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কিনা,তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এ ছাড়া স্বর্ণালঙ্কার লুটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Monday, June 16, 2025

ঘুমন্ত ইউসুফকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে সহকর্মী জুয়েল ও ফরিদ

ঘুমন্ত ইউসুফকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে সহকর্মী জুয়েল ও ফরিদ

 




নিজস্ব প্রতিবেদক :


টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জিবিজি কলেজের নৈশ প্রহরী ইউসুফ (৩৫) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছেন পুলিশ। কলেজের সহকর্মীর হাতেই খুন হন নৈশ প্রহরী ইউসুফ। আটককৃত তিন জনের মধ্যে দুই নৈশ প্রহরী মোঃ সবুজ মিঞা ওরফে ফরিদ (৪৫) ও মোঃ জুয়েল (৩৫) টাঙ্গাইল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন।


 তারা দু'জন সরাসরি ইউসুফ হত্যার সাথে জড়িত বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকতা এসআই রাজু আহমেদ। 


পুলিশ জানায়, ভিকটিম ইউসুফ, আসামী মোঃ জুয়েল ও সবুজ মিঞা ওরফে ফরিদ ঘাটাইল ব্রাহ্মণশাসন সরকারি কলেজে নৈশ প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিল।


 জুয়েলের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার গৌরিশ্বর গ্রামে। অপর আসামী মোঃ সবুজ মিঞা ওরফে ফরিদের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার লাংঙ্গুলিয়া গ্রামে। 


ইউসুফের বাড়ি কলেজর পূর্বপাশে থাকায় প্রতিনিয়ত সূর্য ডোবার আগেই কলেজে এসে বাতি জ্বালাতো ইউসুফ। 


জুয়েল ও ফরিদ অনেক দেরিতে কলেজে আসতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। 


গত ৫ জুন কর্মরত তিন নৈশ প্রহরী রাতে যথারীতি ডিউটি পালন করে। এদের মধ্যে ইউসুফের শরীর খারাপ থাকায় কলেজের বারান্দায় মশারি টাঙ্গিয়ে শুয়ে পড়ে। 


রাত আনুমানিক পৌনে ১টা থেকে আড়াইটার সময় ইউসুফ ঘুমিয়ে পড়লে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ফরিদ ও জুয়েল ঘুমন্ত অবস্থায় ইউসুফের বুকের উপর উঠে শ্বাসরোধ এবং হাত-পা বেধে ফেলে হত্যা করে। 


মৃত্যু নিশ্চিত করে কাথা দিয়ে পেঁচিয়ে লাশ কলেজের উত্তর-পূর্ব কোণে ডোবায় কচুরি পানা দিয়ে ঢেকে রাখে। 


নিখোঁজের ৬ দিন পর লাশ পঁচে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় লোকজন ইউসুফের লাশ সনাক্ত করে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।



এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ সন্দেজনকভাবে তিনজনকে সাথে সাথে আটক করে থানায় নিয়ে যান। 


পরে ইউসুফের স্ত্রী আল্পনা খাতুন বাদী হয়ে গত ১০ জুন ঘাটাইল থানায় আটককৃত তিন জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১১ জুন টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত ৩ দিন মঞ্জুর করেন। 



এদিকে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মধ্যে মোঃ ফরিদ ও জুয়েলের তথ্য অনুযায়ী গত ১৩ জুন ইউসুফের ব্যবহৃত টর্চ লাইট, নোকিয়া মোবাইল ফোন, বাঁশি ও বল্লম মাটিতে পুঁতিয়ে রেখেছে বলে স্বীকার করেন। 


পরে পুলিশ তাদেরকে নিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখা জিনিসপত্র কলেজের পাশ থেকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে আসামীদেরকে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে সবুজ মিঞা ওরফে ফরিদ ও জুয়েল চাঞ্চল্যকর নৈশ প্রহরী ইউসুফ হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজু আহমেদ।



এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ওসি মোশারফ হোসন জানান, মামলায় আটককৃত তিন আসামীর মধ্যে নৈশ প্রহরী হত্যার সাথে ২জন সরাসরি জড়িত বলে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকার করেছে। মামলাটি তদন্ত চলছে।

Thursday, June 12, 2025

টাঙ্গাইলে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

টাঙ্গাইলে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

 


নিজস্ব প্রতিবেদক :


টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে শাওন (১২) ও নাঈম (১০) নামের দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।


বুধবার (১১ জুন) উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামে এঘটনা ঘটে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।


নিহত শাওন (১২) ও নাঈম (১০) উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামের সৌদি প্রবাসী জমির উদ্দিন ও তার ভাই হাবিল উদ্দিনের ছেলে।


ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


জানা গেছে, বুধবার বিকেলে দুইজন শিশু নিখোঁজ হয়।পরিবারের লোকজন তাদের খোঁজাখুঁজি করে একপর্যায়ে রাতে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে পায়ের জুতা ও গেঞ্জি পড়ে থাকতে দেখতে পাই।পরে রাত ১০ টার দিকে পুকুর থেকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসি।দুই কিশোরের কেউ সাঁতার জানতো না বলে জানা যায়।


ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, পুকুরের পানিতে ডুবে দুইজন মৃত্যু হয়েছে।মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


Saturday, April 5, 2025

আমি গত ২৫ বছর এক বারের জন্যও জয় বাংলা বলিনি। আজকে মা এবং বাবার কবরে শপথ করে গেলাম আজ থেকে আমি জয় বাংলা বলব

আমি গত ২৫ বছর এক বারের জন্যও জয় বাংলা বলিনি। আজকে মা এবং বাবার কবরে শপথ করে গেলাম আজ থেকে আমি জয় বাংলা বলব


 আমি গত ২৫ বছর এক বারের জন্যও জয় বাংলা বলিনি। আজকে মা এবং বাবার কবরে শপথ করে গেলাম আজ থেকে আমি জয় বাংলা বলব


নিজস্ব প্রতিবেদক :


কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আল্লাহ আমাদের জয় দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আজ বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়, আজকে এই স্বাধীনতাকে অনেকে মনেই করতে চায় না।


শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাটী নিজ গ্রামে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। কেউ কেউ মনে করতে চায়, এটা স্বাধীনতার পতন হয়েছে। না কনো মতেই না। স্বাধীনতা না থাকলে আজকে যে নেতারা একটা বিপ্লব ঘটিয়েছে আমি তাদের এই বিপ্লবকে সাধুবাদ জানাই এবং তারা যদি ঠিকভাবে চলতে পারতেন তাহলে বহুবছর মানুষ তাদের স্মরণ রাখতো। কিন্তু তারা স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছেন। তারা বঙ্গবন্ধুকে মানে না। তারা জিয়াউর রহমানকে মানে না। তারা আমাদের কাউকেই মানে না। এটা ভালো কথা নয়।’



কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘প্রতিহিংসার জন্য নয়, আমি রাজনীতি করি মানুষকে পাহারা দেওয়ার জন্য, দুঃখি মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য। আজ থেকে আমাদের সক্রিয় রাজনীতি করা দরকার। স্বাধীন বাংলাদেশে জয় বাংলা ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। এটা কারো দলের নয়, ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়। এটা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, স্বাধীনতার স্লোগান। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন জয় বাংলা থাকবে। আমি গত ২৫ বছর এক বারের জন্যও জয় বাংলা বলিনি। আজকে মা এবং বাবার কবরে শপথ করে গেলাম আজ থেকে আমি জয় বাংলা বলব। স্বাধীনতাকামি মানুষের, বাংলাদেশের মানুষের স্লোগান হবে জয় বাংলা।


এসময়ে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, নাসরিন কাদের সিদ্দিকী সহ পরিবারের সদস্যরা, সামাজিক ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীরা।


আমি গত ২৫ বছর এক বারের জন্যও জয় বাংলা বলিনি। আজকে মা এবং বাবার কবরে শপথ করে গেলাম আজ থেকে আমি জয় বাংলা বলব


নিজস্ব প্রতিবেদক :


কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আল্লাহ আমাদের জয় দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আজ বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়, আজকে এই স্বাধীনতাকে অনেকে মনেই করতে চায় না।


শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাটী নিজ গ্রামে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। কেউ কেউ মনে করতে চায়, এটা স্বাধীনতার পতন হয়েছে। না কনো মতেই না। স্বাধীনতা না থাকলে আজকে যে নেতারা একটা বিপ্লব ঘটিয়েছে আমি তাদের এই বিপ্লবকে সাধুবাদ জানাই এবং তারা যদি ঠিকভাবে চলতে পারতেন তাহলে বহুবছর মানুষ তাদের স্মরণ রাখতো। কিন্তু তারা স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছেন। তারা বঙ্গবন্ধুকে মানে না। তারা জিয়াউর রহমানকে মানে না। তারা আমাদের কাউকেই মানে না। এটা ভালো কথা নয়।’



কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘প্রতিহিংসার জন্য নয়, আমি রাজনীতি করি মানুষকে পাহারা দেওয়ার জন্য, দুঃখি মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য। আজ থেকে আমাদের সক্রিয় রাজনীতি করা দরকার। স্বাধীন বাংলাদেশে জয় বাংলা ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। এটা কারো দলের নয়, ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়। এটা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, স্বাধীনতার স্লোগান। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন জয় বাংলা থাকবে। আমি গত ২৫ বছর এক বারের জন্যও জয় বাংলা বলিনি। আজকে মা এবং বাবার কবরে শপথ করে গেলাম আজ থেকে আমি জয় বাংলা বলব। স্বাধীনতাকামি মানুষের, বাংলাদেশের মানুষের স্লোগান হবে জয় বাংলা।


এসময়ে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, নাসরিন কাদের সিদ্দিকী সহ পরিবারের সদস্যরা, সামাজিক ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীরা।


Tuesday, February 25, 2025

ঘাটাইলে সড়কে গাছ ফেলে বাসে ডাকাতি; টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার লুট

ঘাটাইলে সড়কে গাছ ফেলে বাসে ডাকাতি; টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার লুট


 ঘাটাইলে সড়কে গাছ ফেলে বাসে ডাকাতি; টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার লুট


নিজস্ব প্রতিবেদক:



টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সড়কে গজারি গাছ ফেলে অবরোধ করে শিক্ষাসফরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া চারটি বাসে ডাকতির ঘটনা ঘটছে। ডাকাতদলের হানায় লুট হয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার।


মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) ভোর রাতে উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের সাগরদিঘী-ঘাটাইল সড়কের মালিরচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চারটি বাস শিক্ষাসফরের উদ্দেশ্যে নাটোরে যাচ্ছিলেন। পথে সাগরদিঘী-ঘাটাইল সড়কে গজারি গাছ ফেলে তাদের বাস আটকায় একদল সশস্ত্র ডাকাত। গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে বাসে থাকা যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতদল নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয়।

তবে এলাকাবাসী দাবি করেছে, কেবল তদন্তের আশ্বাস নয়, নিয়মিত টহল বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপন করতে হবে। আমরা সজাগ রয়েছি এ নিয়ে কঠোর ভাবে কাজ করছি।

এ সময় শিক্ষার্থীরা চিৎকার করতে থাকলে এক শিক্ষার্থীর গলায় রাম দা ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুট করা হয়। ওই শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে সোয়াইতপুর উচ্চ বিদয়ালয়ের সহকারী শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম রুবেল জানান, ডাকাতদলের কয়েকজন প্রথমে সড়কে গাছ ফেলে। পরে গাড়ীর ড্রাইভারকে অস্ত্রে মুখে জিম্মি করে গাড়ীতে ঢুকে পরে। সে সময় গাড়ীতে থাকা লোকজনের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। তখন বাসে থাকা ছাত্র-ছাত্রীরা চিৎকার শুরু করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আতঙ্কে যার কাছে যা ছিল সব দিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতি কালে প্রায় অর্ধ লক্ষ নগদ টাকা, ৮টি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে।


এছাড়াও গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে একই স্থানে ডাকাতির শিকার হন সাগরদিঘী এলাকার আজমত আলী নামের এক ব্যক্তি। ডাকাতরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ২০ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, রাতে ওই সড়কে যাওয়ার পথে একদল ডাকাত পথরোধ করে। বাঁধা দিতে গেলে তারা হাত-পা বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জঙ্গলে ফেলে চলে যায়। পরে অস্ত্র সাথে থাকা টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জলিল মিয়া বলেন, সাগরদিঘী-ঘাটাইল সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপের অভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাত হলেই এই সড়কটি আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম লিটন ভূঁইয়া বলেন, "প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ডাকাতরা বারবার একই জায়গায় হামলা চালাচ্ছে। আমরা রাতে চলাফেরা করতে ভয় পাই। এখানে একটা পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপনের দাবি করেন তিনি। 

ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছেন বলে দাবি করেছেন গোপালপুর সার্কেলের এসপি মো. রাসেল রানা। তিনি দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমরা তৎপর। স্থানীয়রা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


মোঃমিনহাজ উদ্দিন সুমনন
বাসাইল, টাঙ্গাইল

Thursday, January 9, 2025

সাভারে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত,গ্রামে বইছে শোকের মাতন

সাভারে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত,গ্রামে বইছে শোকের মাতন


 



ঢাকার সাভারে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত গ্রামে চলছে শোকের মাতন। এই গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক ফারুক হোসেন সিদ্দিকী, তার স্ত্রী, ছেলে স্ত্রীর বোন নিহত হওয়ার খবর শোনার পর পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন সিদ্দিকী (৫০) তার অসুস্থ ছেলেকে ফুয়াদ সিদ্দিকীকে (১৪) নিয়ে বুধবার রাত ১১ টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রাত টার দিকে তাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স সাভারে দুর্ঘটনার শিকার হয়। অ্যাম্বুলেন্সটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ফারুক হোসেন সিদ্দিকী, তার ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী, স্ত্রী মহসিনা সিদ্দিকী (৩৮) তার স্ত্রীর বড় বোন সীমা আক্তার (৪০) নিহত হন।

স্থানীয়রা জানান, তাদের মৃত্যুর খবর সকাল টার দিকে বাড়িতে পৌঁছে। তখনই স্বজনদের কান্নার রোল শুরু হয়। কান্না শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে জানতে পারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর। মুহুর্তের মধ্যে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এই সংবাদ। গ্রামবাসীরা শোক জানাতে আসতে শুরু করে ফারুক সিদ্দিকীর বাড়িতে।

 

নিহত ফারুক সিদ্দিকীর ভাই মামুন সিদ্দিকী জানান, ফারুক সিদ্দিকীর বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী ভবনদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র। ফুয়াদ রক্ত রোগে আক্রান্ত। এর আগে ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছে। ফুয়াদ তার মায়ের সাথে  শুক্রবার  নানার বাড়ি গোপালপুর উপজেলার মাকুল্যা গ্রামে অবস্থান করছিলেন। রাতে ফুয়াদের শারিরীক জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসক ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেন।  গোপালপুর থেকে ফুয়াদের মা মহসিনা সিদ্দিকী খালা সীমা আক্তার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ঘাটাইলের হামিদপুর বাস্ট স্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফুয়াদের বাবা রাত ১১ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠেন।

ওই গ্রামের বাসিন্দা সোমা সিদ্দিকী বলেন, এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে। গ্রামের সবাই শোকাহত। সবাই লাশের অপেক্ষায় রয়েছে। 

ফারুক সিদ্দিকীর সহকর্মী সহকারী শিক্ষক রুবেল মিয়া বলেন, ফারুক স্যার অনেক নীতিবান মানুষ ছিলেন। তিনি স্কুলের সবাইকে আগলে রাখতেন।

ফারুক সিদ্দিকীর চাচাতো ভাই জাকির হোসেন সিদ্দিকী বলেন, এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। ফারুক ভাইয়ের ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিকী (১১) বেঁচে রয়েছে। বাবা মা ভাইকে হারিয়ে কিভাবে বাঁচবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হেপলু জানান, শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে ফারুক সিদ্দিকীর সাথে তিনি এক সঙ্গে চা পান করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্স এলে তাকে উঠিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। সকালে উঠেই তাদের মৃত্যুর সংবাদ পান।