Monday, August 18, 2025
Tuesday, May 20, 2025
এবারও হাট কাঁপাতে আসছে ‘মানিক’, কলা খেলেই হয় শান্ত
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের ভেঙ্গুলিয়া গ্রামের হামিদা আক্তার বিশাল আকৃতির ষাঁড় (মানিক) গরুসহ তার খামারে ৮টি গরু রয়েছে। গত ৫ বছর ধরে মানিক নামের গরুটি বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছেন হামিদা।
গত কয়েকবছর ধরে ঈদের হাট কাঁপানোর বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরু কলা খেলেই থাকেন শান্ত। মানিকের বয়স ৯ বছর। ঈদুল আযহার সময় ঘনিয়ে আসলেই মানিকের নামটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েক বছর ধরেই সরগরম হয়ে উঠে। এ বছরও পবিত্র ঈদুল আযহার হাট কাঁপানোর জন্য প্রস্তুত বিশাল আকৃতির দেহ নিয়ে মানিক।
হামিদা আক্তারের মা বছরখানেক আগে মারা গেছে। বৃদ্ধা বাবা এবং ছোট বোনকে নিয়ে হামিদের সংসার। তারা তিন বোন মেজো বোনটি বিয়ে হয়েছে।
প্রতিদিন ষাঁড়টির জন্য খরচ মেটাতে তার হিমশিম খেতে হচ্ছে । ষাঁড় গরুটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। দূর দূরান্ত থেকে ফোন কল আসছে হামিদার কাছে।কত টাকা হলে বিক্রি করবেন তা নিয়ে ফোনে চলে আলোচনা। ষাঁড় গরুটির ওজন প্রায় ২ হাজার কেজির উপরে ।
গত ঈদুল আযহার সময় হামিদা তার মানিককে ১৫ লক্ষ টাকা বিক্রি করেছিলেন। যেকোনো কারণবশত বিক্রি করেনি হামিদা। এবছর মানিকের দাম হাকাচ্ছি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। তবে আলোচনার সাপেক্ষে মানিকের দাম কম বেশি হতে পারে বলে জানা যায় ।
এদিকে মানিককে গোসল করাতে হয় সাবান এবং শ্যাম্পু দিয়ে। সময়মতো খাবার দিতে হয়। খাবার না দিলেই তার পাগলামকি শুরু করে দেন। তার খাবারের মধ্য রয়েছে বুট এবং ভুসি। এছাড়াও রাতের খাবার তার জন্য রাখা হয়েছে কলা।
স্থানীয় রাসেল মিয়া বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছেন প্রায় ৬০ মন ওজনের মানিক। কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় ষাঁড়টি (মানিক) বিক্রি করতে পারছে না হামিদা আক্তার।
এদিকে চাকুরির পিছনে না ঘুরে নারী উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই বিশাল দেহী ওজনের ষাঁড় গরুটি লালন পালন করছেন হামিদা। এই বিশাল দেহী ষাঁড় গরুটির সাথে রয়েছে আরো সাতটি গরু। এরমধ্যে বিশাল ষাঁড় গরুটি বিক্রির পাশাপাশি আরো দুটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন তিনি। এছাড়াও পালে রয়েছে দুটি বকনা গরুসহ দুটি দুধের গরু।
ভেঙ্গুলিয়া গ্রামের রফিক সালাম শফিক জানান, এই গ্রামে একজন নারী উদ্যোক্তা হামিদা আক্তার তিনি কয়েকটি গরু লালন পালন করছেন। এরমধ্যে বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড় নাম রাখা হয়েছে মানিক। সেই ষাঁড়টি বেশ কয়েক বছর ধরে বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছেন। উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারছে না। তারা জানান উপযুক্ত দামে বিক্রি করতে পারলে হামিদা আক্তার একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারত। তার স্বপ্ন এই ষাঁড়টি বিক্রি করে একটি খামার গড়ে তুলবেন। তাই সরকারের কাছে আবেদন নিবেদন জানাই যাতে করে হামিদার গরু বিক্রিতে সার্বিক সহযোগিতাসহ সফল উদ্যোক্ত হওয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানাই।
এবিষয়ে হামিদা আক্তার বলেন, রাতে যখন ঘুমিয়ে পড়ি ঘুম থেকে জেগে উঠে তাকে বারবার দেখতে হয়। তিনি কিভাবে ঘুমাচ্ছেন। কিভাবে শুয়ে রয়েছেন, কিভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার উপরে ফ্যান চলছে কিনা, নিচে তার ময়লা জমেছে কিনা, সে ব্যাপারে সব সময়ের জন্য সজাগ থাকতে হয়।
এই মানিককে নিয়ে যেভাবে পরিশ্রম করছি হয়তো একদিন এই মানিক কে বিক্রি করে দেব। সেদিন মনে পড়বে এই মানিকের কথা। মানিককে যেভাবে আদর স্নেহ দিয়ে লালন পালন করছি সেটি ভোলার মত নয়। মানিকের খাওয়া দাওয়া একটু কষ্ট হলেই অস্থির হয়ে ওঠেন। আর তখনই তার সামনে ধরি কলা। তিনি কলা পেলে শান্ত হয়ে যান।
হামিদা আক্তার আরো বলেন, বিশাল আকৃতির ষাঁড় (মানিকের) খাবার ও লালন পালনের পিছনে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। এই খরচ জোটাতে তার পক্ষে হিমশিম খেতে হয়।
ভালো মুনাফার আশায় মানিক রতনসহ কয়েকটি গরু লালন পালন করেন। এরমধ্যে মানিকের জুটি ছিল রতনসহ আরো কয়েকটি সেগুলো বিক্রি করেছি। কিন্তু মানিককে বিক্রি করতে পারেনি।
Sunday, April 6, 2025
টাঙ্গাইলে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি, যুবককে গণপিটুনি
টাঙ্গাইলে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি, যুবককে গণপিটুনি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি ও অশোভন কার্টুন পোষ্টের জেরে গণপিটুনির শিকার হয়েছে এক হিন্দু যুবক। বর্তমানে এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে নিরাপত্তা জনিত কারণে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে দেলদুয়ার সদর উপজেলার দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবকের নাম অখিল চন্দ্র মন্ডল (৪০)। সে দেলদুয়ার সদর উপজেলার দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকার গেদু চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। সে পেশায় একজন স্বর্ণকার।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি ও অশোভন কার্টুন পোস্ট করে উপজেলা সদর ইউনিয়নের দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকার গেদু চন্দ্র মন্ডলের ছেলে অখিল চন্দ্র মন্ডল নামের এক হিন্দু যুবক। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ওই যুবকের নিজ কর্মস্থল দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া বাজারের জুয়েলারী দোকানে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চায় ওই যুবকের কাছে। পরে চারপাশের অবস্থা উত্তপ্ত দেখে অভিযুক্ত অখিল পাশের আরেকটি দোকানে আশ্রয় নেয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনগণ তার বিচার চেয়ে দোকানটির চারপাশ ঘিরে রেখে স্লোগান দিতে থাকে।
খবর পেয়ে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীকেও জানানো হয়। এরমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌছে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবককে দোকানের ভিতরে ঢুকে গণপিটুনি দিতে শুরু করে।
এ সময় পুলিশ সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আজাদ মিয়া জনতার হাত থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে সিএনজিতে তুলে দেন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ওই যুবককে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে গণপিটুনিতে আহত ওই যুবক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং স্লোগান দিতে থাকে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক হাওলাদার জানান, অভিযুক্ত ওই যুবককে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার (৭ এপ্রিল) সকালে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হবে।