১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ১০৭ তম জন্মদিন এবং ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী পালন করলেন বঙ্গবীর কাদেরে সিদ্দিকী বীর-উত্তম
নিজস্বপ্রতিবেদকঃ
মঙ্গলবার
সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের সোনার বাংলা কমিনিউটি সেন্টারে বঙ্গবন্ধুর ১০৭ তম জন্মদিন
এবং ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী পালন করেন বঙ্গবীর কাদেরে সিদ্দিকী বীর-উত্তম।
ইফতারের আগে
দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।নামাজের পরে আলোচনা সভায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন।
আজ
১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ১০৭ তম জন্মদিন এবং
১০৬ তম জন্মবার্ষিকী অনেকে
এটা খেয়াল করে না জন্মদিন আর
জন্মবার্ষিকী এক বছর আগে
পিছ এক বছর পূর্ণ
হলে জন্মবার্ষিকী আলোচনা হয় আমি ধন্যবাদ জানাই মেনু ভাইকে বহুদিন পরে তার সাজানো গোছানোর কিছু বক্তব্য শুনলাম।
এটা এক লক্ষ বাদু
লক্ষ মানুষের সামনে বক্তৃতা করলে আমার হৃদয়ে যে রেখাপাত করতো
আজকে তার চাইতে বেশি করেছি। আমার দুপাশে দুজন একজন আলমগীর খান মেনু আরেকজন আবুল কালাম আজাদ দুজনের বক্তৃতায় কিন্তু দুটি ধারা লক্ষ্য করেছি।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি
অসাধারণ বক্তৃতা করেছি প্রাণের থেকে কথা বললে সেটা হৃদয়ে স্পর্শ করে বঙ্গবন্ধুকে ৭৫ সালের ১৫ই
আগস্ট হত্যা করা হয়েছে। যে কাউকেই হত্যা
করা যায়। এইযে খমিনীকে ইরানের খমেনিকে হত্যা করা হয়েছে এটা খুব স্বাভাবিক।
বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যিনি সারা পৃথিবীর বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে জয় লাভ করেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত রাশিয়া ছাড়া আর সব সরকার
পরাজিত হয়েছে। পৃথিবীর এত শক্তি পরাজিত
করে যিনি তার পরবর্তীতে জীবিত থাকা খুবই মুশকিল।
এবং সে কারণে বঙ্গবন্ধু
নিহত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়াটা এটা খুব একটা বড় কিছু নয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শটা মুছে ফেলার চেষ্টা করা এটা মস্ত বড় কথা।
এটা করা যাবেও না করতে পারবেও না কেউ। বঙ্গবন্ধুকে
নিশ্চয়ই মারা যায় তাকে মোছা যায় না। খুবই মুশকিল। আমাদের নানা ভুল ত্রুটি আছে। যিনি নেতৃত্ব করেন আর কর্তৃত্ব করেন
তিনি যদি মনে করেন যে ক্ষতি হলে
তারই হবে লাভ হলে তারই হবে এটা ভুল যিনি নেতৃত্ব কর্তৃত্ব করেন তার ভালো অনেকের ভালো তার ক্ষতি বহু মানুষের ক্ষতি হয়।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, যেটা আজকে আমাদের প্রমাণ হচ্ছে পাকিস্তান হওয়ার পরে আওয়ামী লীগ বলব কেন? বাঙালি বলি এত নির্যাতিত কখনো
কোন বাঙালি হয়নি। যেটা হয়েছে একটা জিনিস মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা জয়ী হয়েছিলাম।
কাদের সিদ্দিকী
বলেন, আবুল কালামের
কথায় মনে হলো যে বঙ্গবন্ধুর জন্য
অপেক্ষা না করে স্বাধীনতা
বিরোধীদের মেরে ফেললে আজকের এই অবস্থা হতো
না। আমি যদি ওর সঙ্গে একমত
হতে পারতাম তাহলে আমি খুশি হতাম। আমি ওর সঙ্গে একমত
হতে পারছি না। এইজন্য পারছি না যে আমরা
যদি স্বাধীনতার পর পাকিস্তানিদের মত
অনেক স্বাধীনতা বিরোধীকে মেরে ফেলতাম তাহলে আমাদের পতন আরো অনেক আগে হতো
কাদের সিদ্দিকী
বলেন, পৃথিবীর কোথাও
কাউকে মেরে কখনো কেউ জয়ী হয় নাই যে নিয়ন্ত্রণ করতে
পারে সেই জয়ী হতে পারে স্বাধীনতার পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের
এর পক্ষে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের জন্য কিছু করার আছে মানুষের জন্য কোন দায়িত্ব আছে এটা আমরা অনেকেই অনেক অনেকে কেন প্রায় সবাই একটু হলেও ভুলে গিয়েছে।
কেউ হয়তো পুরা ভুলে নাই কেউ হয়তো চার আনা ভুলেছে কেউ হয়তো দুই আনা ভুলেছে ভুলেছে সবাই আমরা সবাই মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলেরা এখনো লেখাপড়া করে নাই রাজাকারের ছেলেরা লেখাপড়া করেছে আজকে ডিসিওসি তারা হইছে এসপি হইছে তাদের তো এই জন্য
গলা টিপে ধরা চলবে না আমাদের ছেলেদের
উপযুক্ত করা উচিত ছিল আমরা কিন্তু এখনো এই যে এত
বড় একটা বিপর্যয় হয়েছে তারপরও আমাদের লোকদের এটাকে হৃদয়ঙ্গম করবার অবস্থা আমি বেশি মানুষকে দেখি।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, এটার থেকে যদি শিক্ষা নিতাম তাহলে আমাদের অনেক কিছু হতো আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং মানুষের কাছে যাওয়া উচিত মানুষকে সম্মান করা উচিত আমি গত জানুয়ারির ৭
তারিখে খুব সম্ভবত ৭ তারিখে না
তার কয়েকদিন পরে বলেছিলাম আওয়ামী লীগ যে অপরাধ করে
আজকে এই অবস্থায় এসেছে
সেই একই কাজ যদি বিএনপি করে তাদেরও সেই একই পথে আসতে।
বিএনপিও কিন্তু খুব একটা বদল হয় নাই। মীর ভাই যেমন বললেন কাদের সিদ্দিকী বলেন,
আমিও বলছি যে আমি তারেক
রহমানকে সমর্থন করতে পারতাম না। কারণ তার কর্মকাণ্ড আমার পছন্দ হতো না। কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পরে তার একটা কথাও আমি বিরোধিতা করতে পারতেছি না।
তিনি
যদি চেষ্টা করে তার এই লোকদেরকে নিয়ন্ত্রণ
করতে পারেন এবং দেশের সেবা করতে পারেন তাহলে নিশ্চয়ই তাকে মানুষ স্মরণ করবে। কাদের সিদ্দিকী বলেন,
বঙ্গবন্ধুকে
বাদ দিয়ে জিয়াউর রহমান না জিয়াউর রহমানকে
বাদ দিয়ে আমরা সবাই না। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে জিয়াউর রহমান না স্বাধীনতাকে বাদ
দিয়ে জিয়াউর রহমান না।
কাদের
সিদ্দিকী বলেন, জিয়াউর
রহমানকে রাখতে হলে বঙ্গবন্ধুকে মাথার উপরে রাখতে হবে স্বাধীনতাকে মাথার উপরে রাখতে হবে এবং এজন্যে আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী বঙ্গবন্ধুকে আমরা ভালোবাসি বঙ্গবন্ধুর দ্বারা আমরা দেশকে চিনেছি জাতিকে চিনেছি দেশপ্রেমিক হয়েছি তাদের উচিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধরে রাখা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলতে আমি কিন্তু মনে করি মানুষকে ভালোবাসা মানুষের সেবা করা চুরি চরচামি না করা বঙ্গবন্ধুর
আদর্শের লোক চোর হইতে পারে না ঘুষখোর হইতে
পারে না ভুল করতে
পারে কিন্তু একেবারে জন্মগত অন্যায়কারী হতে পারে না।
বঙ্গবন্ধুর
আদর্শের সন্তান হবে ন্যায়পরায়ণ। আমরা যেন ন্যায়পরায়ণ হতে পারি। আমরা যেন অন্যকে সম্মান করতে পারি। আজকে এই মহান মানুষটার
জন্মদিন। একটা সময় এমন করা হতো ৭ই মার্চের ভাষণে
৭ তারিখে যেমন কান ঝালাপালা করে দেওয়া হতো। একটা ছোট্ট মিটিং ডেকে সেখানে তার রেকর্ড বাজিয়ে দেওয়া হতো। আজকের ১৭ই মার্চেও কিন্তু তাই হতো। এটা অন্তর না, এটা আত্মা না। এটা লালন না, এটা পালন না।
কাদের
সিদ্দিকী বলেন, সেইজন্য
আমরা হৃদয়ে যদি একটা মানুষও যদি বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করতে পারি তাহলেই নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধু টিকে থাকবেন সারা পৃথিবী। বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নেতা না। সারা পৃথিবীর নির্যাতিত মানুষের তিনি নেতা এবং সেটা আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছি। আজকে একটা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটা অবস্থা কাজ করছে।
কাদের
সিদ্দিকী বলেন, আমি
খুব খুশি হতাম যদি সবার মধ্যে পরিবর্তন দেখতাম। যারা এখানে কি কষ্ট করে
দিন কাটাচ্ছে কিভাবে যারা বাইরে চলে গেছেন নিশ্চয়ই এরকম হলে যায়। কিন্তু তাদের মধ্যে আমি কোন রকমের পরিবর্তন আমি দেখি না।
কাদের সিদ্দিকী
বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধুর
জন্মদিনের মধ্য দিয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব তাদের আল্লাহ পরিবর্তন দিন। মানুষের সেবক হওয়ার সুযোগ দিন। মানুষ নিশ্চয়ই ভুল করতে পারে। নিশ্চয়ই কোন নেতার ভুল হবে।
কর্মীর ভুল হবে। ক্ষমা চাইলে যদি আল্লাহ ক্ষমা করেন তাহলে ক্ষমা চাওয়ার মত মানসিক অবস্থা
হওয়া দরকার।
কাদের সিদ্দিকী
বলেন, আমি আবারো
এই সরকারকেও ধন্যবাদ দেই। মানুষের সরকার হওয়ার জন্যে যারা আন্দোলন করে শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছিলেন তাদেরকেও ধন্যবাদ দেই যদি তারা সংযত থাকেন তারা যদি মনে করেন যে তারা মানুষের
মালিক দেশবাসীর মালিক তাহলে তাদের অধঃপতন হবেই হবে অনেকটা তো হয়েছেই।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আর তারা যদি
মনে করেন যে তারাও দেশের
মানুষের সেবক। তাহলে নিশ্চয়ই তাদের অবদান অনেকদিন মানুষ মনে রাখবে। আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন বঙ্গবন্ধুকে বেহেস্তবাসী করেন। তার পরিবার পরিজন যারা ১৫ই আগস্ট নিহত হয়েছেন তাদেরকে আল্লাহ যেন মাফ করে বেহেস্তবাসী করেন। আমার দেশবাসীকে আল্লাহ যেন তার পবিত্র আরশের ছায়াতলে রাখেন। আমার দেশবাসী যাতে ভালো থাকেন। বঙ্গবন্ধুকে আমরা যাতে অনুসরণ করতে পারি। জাতির পিতা হিসাবে এই জাতি যেন
তাকে মনের মনিকঠা স্থান দিতে পারে এই আশাবাদ ব্যক্ত
করে আজকের সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে এবং যারা এসেছিলেন তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে আমার কথা শেষ করছি আল্লাহ সবাইকে রহমত করুন খোদা হাফেজ ।
