বাসাইলে নিজস্ব অর্থায়নে ৬৩০ মিটার রাস্তার মাটি ভরাট কাজের উদ্বোধন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান
নিজস্ব
প্রতিবেদকঃ
২৫
এপ্রিল ২০২৬, শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের
উত্তর যৌতুকী গ্রামে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে ৬৩০ মিটার সড়কের মাটি ভরাট কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
স্থানীয়
জনগণের চলাচল সহজ ও নিরাপদ করতে
সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই উদ্যোগ গ্রহণ
করেছেন কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, উত্তর যৌতুকী গ্রামের হাসান মিয়ার বাড়ি থেকে শাহাদত হোসেনের বাড়ির সামনে মসজিদসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানিতে রাস্তার
অবস্থা আরও নাজুক হয়ে যেত, ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন করাও কঠিন হয়ে পড়ত।
এমন
পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে এবং সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় চেয়ারম্যান
শামীম আল মামুন নিজ
উদ্যোগে সড়কটির উন্নয়ন কাজ হাতে নেন। এরই অংশ হিসেবে ৬৩০ মিটার সড়কে মাটি ভরাট কাজ শুরু হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে
এলাকাবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন বলেন,
এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। জনগণের কষ্ট আমি নিজে দেখেছি এবং অনুভব করেছি। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে নিজস্ব
অর্থায়নে কাজটি শুরু করেছি, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এর সুফল পায়।
ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের উদ্যোগ
অব্যাহত থাকবে।
তিনি
আরও বলেন, গ্রামের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে
আমরা আরও অনেক কাজ করতে পারবো।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩ নং ওয়ার্ডের
ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান উজ্জ্বল, ১, ২ ও
৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত
মহিলা ইউপি সদস্য তাসলিমা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
এবং এলাকার সাধারণ জনগণ।
এ
সময় বক্তারা চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী
ও জনকল্যাণমূলক বলে অভিহিত করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই সড়কের কাজ
শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয়
বাসিন্দারা জানান, সড়কটি সংস্কার হলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য পরিবহনকারী কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল অনেক সহজ হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যে দুর্ভোগ পোহাতে
হতো, তা থেকে মুক্তি
মিলবে।
তারা
চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে এমন উদ্যোগ নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হয়ে স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
এলাকাবাসীর
মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে
শুধু একটি সড়কের উন্নয়নই নয়, বরং উত্তর যৌতুকী গ্রামের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি
ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

.jpeg)