Thursday, June 25, 2026

আওয়ামী লীগের শিকড় জনগণের মাঝে, নিষেধাজ্ঞা ও নির্যাতনে কোনো রাজনৈতিক দলকে দমিয়ে রাখা যায় না: কাদের সিদ্দিকী

 



 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বঞ্চনা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত দলটি শুরুতেআওয়ামী মুসলিম লীগনামে যাত্রা শুরু করলেও পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করেআওয়ামী লীগনামে আত্মপ্রকাশ করে।

 

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ শুধু মুসলমানদের দল নয়, এটি সকল মানুষের দল। সেই চিন্তা থেকেই ১৯৫৫ সালের সম্মেলনেমুসলিমশব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ গঠন করা হয়।

 

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছেন, যারা ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করেও দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন।এমন অনেক কর্মী আছেন, যারা স্ত্রীর কানের দুল, নাকফুল বিক্রি করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন, দলীয় নেতাদের আপ্যায়ন করেছেন। তারা কখনো হাইব্রিড রাজনীতির অংশ ছিলেন না।

 

তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কোনো সরকারই বিরোধী দলের ওপর অতিরিক্ত নিপীড়ন চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন বলে মন্তব্য করেন।

 

শেখ হাসিনার শাসনামলের মূল্যায়ন করতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “পাকিস্তানের ২২ ধনী পরিবারের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে সেই সংখ্যা ২২ হাজারে পৌঁছেছে। এটি যদি সাফল্য হয়, তাহলে তিনি তার কৃতিত্ব পাবেন; আর যদি দেশের সামগ্রিক কল্যাণের পরিপন্থী হয়ে থাকে, তবে সমালোচনাও পাবেন।

 

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক উত্থান-পতনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণকে সম্মান না করে কোনো রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না। ভুল স্বীকার জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক নেতৃত্ব পুনরায় আস্থা অর্জন করতে পারে।

 

তিনি বলেন, “জনগণের আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী লীগকে কেউ চিরদিন দমিয়ে রাখতে পারবে না। ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে দলটি আবারও জনগণের মাঝে ফিরে আসতে পারে।

 

সময় প্রয়াত কবি মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদীর স্মৃতিচারণও করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, আল মুজাহিদী ছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নারুচি গ্রামের সন্তান এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক কর্মী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ছাত্র আন্দোলন, ভাষা-সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি ঘটনা উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধ চলাকালে আল মুজাহিদী একটি রিভলভার নিজের কাছে রাখলেও স্বাধীনতার পর সেটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এতে তার সততা, দায়িত্ববোধ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।

 

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “রাজনীতি থেকে চোর-দুর্নীতিবাজদের দূরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা রাজনৈতিকভাবে দমন করার চেষ্টা কখনোই শুভ ফল বয়ে আনে না। ইতিহাস বলে, এর ফল সবসময় অশুভ হয়েছে।

 

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার বিচার হতে পারে, কিন্তু কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

 

সবশেষে তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ করি না, আমি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ করি। কিন্তু আমার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার আদর্শ মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের সেবা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি মানুষের সেবক হিসেবেই বেঁচে থাকতে চাই।

 

তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং দেশবাসীর কাছে গণতান্ত্রিক সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া কামনা করেন।


শেয়ার করুন