Friday, October 9, 2026

প্রবাসীদের টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তা ল্যাম্প বাতি

 



নিজস্বপ্রতিবেদকঃ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন করা হয়েছে। রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপনে হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামের প্রবাসীরা প্রংশসায় ভাঁসছে।

জানা গেছে, উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামের প্রবাসীরা নিজেদের ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তায় ১০০টি ল্যাম্প বাতি স্থাপন করেছে। সোনালিয়া এলাকাবাসীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ মাসের মধ্যেই  তিন কিলোমিটার রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপনের কাজ সম্পূর্ণ হয়। আলোকিত সোনালিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ল্যাম্প বাতি স্থাপন করে। প্রতিটি ল্যাম্প বাতি স্থাপনে ৭-৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। ১০০ ফিট দুরত্ব ১টি করে ল্যাম্প বাতি বসানো হয়েছে। সোনালিয়া প্রবাসীরা শুধু রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন নয়, অসহায়, হতদরিদ্র পরিবারের পাশেও দাঁড়ায়। প্রবাসীরা অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। এই ল্যাম্প বাতি স্থাপন করায় এলাকায় প্রংশসায় ভাঁসছে প্রবাসীরা।


স্থানীয়রা জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া সুন্দরী খালের পাশ দিয়েই সোনালিয়া রাস্তা। করটিয়া বাজার থেকে সোনালিয়া কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন করেছে। শুধু এই এক রাস্তা নয়, গ্রামের কয়েকটি রাস্তায় তারা ল্যাম্প বাতি স্থাপন করেছে। ১০০ ফিট দূরত্ব ১টি করে ল্যাম্প বাতি স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে আলোকিত হয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। রাতের সময় এই রাস্তা দিয়ে চলতে অনেক সমস্যা হতো। এখন ল্যাম্প বাতি থাকায় মানুষ নিবিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছে। সোনালিয়া গ্রামের প্রবাসীরা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই কাজ এখন সবার মুখে মুখে। তাদের এই কাজে তাদের প্রতি এলাকাবাসী কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।


স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল আউয়াল উজ্জ্বল বলেন, প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় ১০০টি ল্যাম্প বাতি বসানো হয়েছে। সম্পূর্ণ রাস্তা ও এলাকা আলোকিত করে ফেলেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিক্রিয়া আসতেছে– তোমাদের এলাকা তো সিঙ্গাপুরের মতো বানিয়ে ফেলেছো। তোমাদের এলাকার ছেলেরা ভালো কাজ করেছে। এরকম কাজ হলে তো দেশ ও এলাকা এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এই এলাকার পাশেই ঐতিহ্যবাহী করটিয়া হাট ও সরকারী সা'দত কলেজ। এই রাস্তা দিয়ে অনেক মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এই ল্যাম্প বাতি বসানোর ফলে সবাই স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারছে। আমরা এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত। প্রবাসীদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।


পশ্চিম পৌলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, কৃতজ্ঞতা শেষ করা যাবে না প্রবাসীদের প্রতি। যারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ১০ লাখ টাকা খরচ করে এতো সুন্দর একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।  আজকে সোনালিয়া গ্রামকে আলোকিত করেছে। আমাদের তরুণ সমাজ হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও তারা গ্রামের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে। আমার সত্যিই আনন্দিত।


হাবলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক বলেন, প্রবাসীদের নিজ অর্থায়নে তিন কিলোমিটার রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন করা হয়েছে। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ টি ল্যাম্প বাতি স্থাপন করা হয়েছে। মানুষ এখন রাতে ভালোভাবে চলাচল করতে পারছে। আগে রাস্তায় চলাচল করলে চুরির ঘটনা ঘটতো।  এখন আর চুরির ঘটনা ঘটবে না। প্রবাসীরা ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রবাসীরা প্রংশসার

দাবিদার। সোনালিয়া গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সবাই প্রবাসীদের সহযোগিতা করেছে। এই গ্রামের প্রবাসীরা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করে আসছে।


আলোকিত সোনালিয়া প্রকল্পের সভাপতি তরিকুল ইসলাম রতন বলেন, আমাদের প্রবাসীরা যে উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের নিজ অর্থায়নে তিন কিলোমিটার রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন করেছি। রাতের সময় এই রাস্তায় যাতায়াত করতে সমস্যা হতো। এখন আর কোন সমস্যা হয় না। মানুষ এখন সুন্দরভাবে যাতায়াত করতে পারছে। প্রবাসীরা যেন গ্রামের উন্নয়নে সবসময় অবদান রাখতে পারে। আমরা প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতা করব।


টাঙ্গাইল জেলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক নুরুল ইসলাম রবিন বলেন, আমি সোমালিয়ার একজন সন্তান। আমি সোনালিয়াতে জন্মগ্রহন করে আনন্দিত। সোনালিয়া গ্রামে যারা প্রবাসে বসবাস করে সেই সোনার ছেলেরা সোনালিয়া গ্রামের অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা তারা আলোকিত করেছে। প্রবাসীরা ১০ লাখ টাকা খরচ করে সোনালিয়াকে আলোকিত করার চেষ্টা করছে। আগামী দিনগুলোতে সোনালিয়া একটি আদর্শ গ্রাম হিসেবে রুপান্তর করার জন্য যা যা করণীয় আমরা প্রবাসীদের পিছনে ও সামনে থেকে সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করব।

                                                     বাসাইল নতুন সংবাদ

 

 

 


শেয়ার করুন