Monday, October 19, 2026

দুর্গাপূজা ঘিরে টাঙ্গাইল ও বাসাইলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

দুর্গাপূজা ঘিরে টাঙ্গাইল ও বাসাইলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

 





নিজস্ব প্রতিবেদক:


শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে টাঙ্গাইল সদর ও বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ সুলাইমান, পিপিএম। তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত।


পরিদর্শনকালে তিনি টাঙ্গাইল সদর থানাধীন বড় কালীবাড়ী পূজামণ্ডপ, বাসাইল থানাধীন সাহাপাড়া পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।


মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সুলাইমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান। উৎসবকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) এ. কে. এম. মামুনুর রশীদ, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবির, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।



শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন এবং পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ পরিদর্শন করা হয়।

Thursday, October 15, 2026

বাসাইল থানা পুলিশের তৎপরতায় ৩০ মিনিটে উদ্ধার হলো ঢাকার শিক্ষার্থীর হারানো ল্যাপটপ

বাসাইল থানা পুলিশের তৎপরতায় ৩০ মিনিটে উদ্ধার হলো ঢাকার শিক্ষার্থীর হারানো ল্যাপটপ

 


নিজস্ব প্রতিবেদক : 


ঢাকা থেকে বাসযোগে রংপুর যাওয়ার পথে ব্যাগের সঙ্গে অদলবদল হয়ে যাওয়া একটি ডেল ল্যাপটপ মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইলের বাসাইল থানা পুলিশ। পরে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি প্রকৃত মালিক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিন হোসেন আইকনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাহিন হোসেন আইকন ঢাকা থেকে বাসযোগে নিজ বাড়ি রংপুরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাসাইল থানা এলাকায় অন্য এক যাত্রীর ব্যাগের সঙ্গে তাঁর ব্যাগটি ভুলবশত অদলবদল হয়ে যায়। এতে তাঁর ব্যবহৃত ডেল ল্যাপটপটি অন্য যাত্রীর কাছে চলে যায়।


বিষয়টি বুঝতে পেরে মাহিন হোসেন আইকন বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবিরকে মুঠোফোনে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ল্যাপটপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বাসাইল থানা পুলিশ।


পরবর্তীতে আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি প্রকৃত মালিক মাহিন হোসেন আইকনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মাহিন হোসেন আইকনের পিতা আবুল হাসান। তাঁদের বাড়ি রংপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায়।


দ্রুততম সময়ে হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বাসাইল থানা পুলিশের তৎপরতা ও আন্তরিকতার বিষয়টি উঠে এসেছে।


আলমগীর কবির

অফিসার ইনচার্জ (ওসি)

বাসাইল থানা, টাঙ্গাইল।


Wednesday, October 14, 2026

টাঙ্গাইলের বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে মাসিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

টাঙ্গাইলের বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে মাসিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

 





নিজস্বপ্রতিবেদকঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে মাসিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনাময় পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আয়ুব আলী। এ সময় কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সবার আন্তরিক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের মেধা ও মনন প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য গড়ে তোলা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে আনন্দময়, সৃজনশীল ও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংস্কৃতিচর্চার আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কলেজের সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।

Friday, October 9, 2026

প্রবাসীদের টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তা ল্যাম্প বাতি

প্রবাসীদের টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তা ল্যাম্প বাতি

 



নিজস্বপ্রতিবেদকঃ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন করা হয়েছে। রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপনে হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামের প্রবাসীরা প্রংশসায় ভাঁসছে।

জানা গেছে, উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামের প্রবাসীরা নিজেদের ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তায় ১০০টি ল্যাম্প বাতি স্থাপন করেছে। সোনালিয়া এলাকাবাসীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ মাসের মধ্যেই  তিন কিলোমিটার রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপনের কাজ সম্পূর্ণ হয়। আলোকিত সোনালিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ল্যাম্প বাতি স্থাপন করে। প্রতিটি ল্যাম্প বাতি স্থাপনে ৭-৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। ১০০ ফিট দুরত্ব ১টি করে ল্যাম্প বাতি বসানো হয়েছে। সোনালিয়া প্রবাসীরা শুধু রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন নয়, অসহায়, হতদরিদ্র পরিবারের পাশেও দাঁড়ায়। প্রবাসীরা অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। এই ল্যাম্প বাতি স্থাপন করায় এলাকায় প্রংশসায় ভাঁসছে প্রবাসীরা।


স্থানীয়রা জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া সুন্দরী খালের পাশ দিয়েই সোনালিয়া রাস্তা। করটিয়া বাজার থেকে সোনালিয়া কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন করেছে। শুধু এই এক রাস্তা নয়, গ্রামের কয়েকটি রাস্তায় তারা ল্যাম্প বাতি স্থাপন করেছে। ১০০ ফিট দূরত্ব ১টি করে ল্যাম্প বাতি স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে আলোকিত হয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। রাতের সময় এই রাস্তা দিয়ে চলতে অনেক সমস্যা হতো। এখন ল্যাম্প বাতি থাকায় মানুষ নিবিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছে। সোনালিয়া গ্রামের প্রবাসীরা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই কাজ এখন সবার মুখে মুখে। তাদের এই কাজে তাদের প্রতি এলাকাবাসী কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।


স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল আউয়াল উজ্জ্বল বলেন, প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় ১০০টি ল্যাম্প বাতি বসানো হয়েছে। সম্পূর্ণ রাস্তা ও এলাকা আলোকিত করে ফেলেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিক্রিয়া আসতেছে– তোমাদের এলাকা তো সিঙ্গাপুরের মতো বানিয়ে ফেলেছো। তোমাদের এলাকার ছেলেরা ভালো কাজ করেছে। এরকম কাজ হলে তো দেশ ও এলাকা এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এই এলাকার পাশেই ঐতিহ্যবাহী করটিয়া হাট ও সরকারী সা'দত কলেজ। এই রাস্তা দিয়ে অনেক মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এই ল্যাম্প বাতি বসানোর ফলে সবাই স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারছে। আমরা এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত। প্রবাসীদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।


পশ্চিম পৌলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, কৃতজ্ঞতা শেষ করা যাবে না প্রবাসীদের প্রতি। যারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ১০ লাখ টাকা খরচ করে এতো সুন্দর একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।  আজকে সোনালিয়া গ্রামকে আলোকিত করেছে। আমাদের তরুণ সমাজ হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও তারা গ্রামের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে। আমার সত্যিই আনন্দিত।


হাবলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক বলেন, প্রবাসীদের নিজ অর্থায়নে তিন কিলোমিটার রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন করা হয়েছে। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ টি ল্যাম্প বাতি স্থাপন করা হয়েছে। মানুষ এখন রাতে ভালোভাবে চলাচল করতে পারছে। আগে রাস্তায় চলাচল করলে চুরির ঘটনা ঘটতো।  এখন আর চুরির ঘটনা ঘটবে না। প্রবাসীরা ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রবাসীরা প্রংশসার

দাবিদার। সোনালিয়া গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সবাই প্রবাসীদের সহযোগিতা করেছে। এই গ্রামের প্রবাসীরা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করে আসছে।


আলোকিত সোনালিয়া প্রকল্পের সভাপতি তরিকুল ইসলাম রতন বলেন, আমাদের প্রবাসীরা যে উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের নিজ অর্থায়নে তিন কিলোমিটার রাস্তায় ল্যাম্প বাতি স্থাপন করেছি। রাতের সময় এই রাস্তায় যাতায়াত করতে সমস্যা হতো। এখন আর কোন সমস্যা হয় না। মানুষ এখন সুন্দরভাবে যাতায়াত করতে পারছে। প্রবাসীরা যেন গ্রামের উন্নয়নে সবসময় অবদান রাখতে পারে। আমরা প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতা করব।


টাঙ্গাইল জেলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক নুরুল ইসলাম রবিন বলেন, আমি সোমালিয়ার একজন সন্তান। আমি সোনালিয়াতে জন্মগ্রহন করে আনন্দিত। সোনালিয়া গ্রামে যারা প্রবাসে বসবাস করে সেই সোনার ছেলেরা সোনালিয়া গ্রামের অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা তারা আলোকিত করেছে। প্রবাসীরা ১০ লাখ টাকা খরচ করে সোনালিয়াকে আলোকিত করার চেষ্টা করছে। আগামী দিনগুলোতে সোনালিয়া একটি আদর্শ গ্রাম হিসেবে রুপান্তর করার জন্য যা যা করণীয় আমরা প্রবাসীদের পিছনে ও সামনে থেকে সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করব।

                                                     বাসাইল নতুন সংবাদ

 

 

 

Thursday, October 8, 2026

অপরাধী ভাই-আত্মীয় হলেও ছাড় দেওয়া হবে না: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান

অপরাধী ভাই-আত্মীয় হলেও ছাড় দেওয়া হবে না: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান

 



নিজস্বপ্রতিবেদকঃ

 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার, প্রত্যেকটা ইউনিয়নে, প্রত্যেকটা স্কুলে একটি করে মাঠ এবং স্কুলের বাইরে প্রত্যেকটা ইউনিয়নে একটি করে মাঠ করবার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে এবং প্রত্যেকটা স্কুলে—যাতে করে ছেলেরা, মেয়েরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে, লেখাপড়া ও খেলাধুলা—তাহলে কিন্তু নেশা তাদেরকে স্পর্শ করবে না।

 

 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইলে এসএসসি/দাখিল/সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, জুনিয়র/সমমান ও প্রাথমিক/সমমান বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

​মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমার দেশটা গরিব। এই গরিব দেশের মধ্য থেকেই ১৮ বছরে প্রায় ৪০ লাখ কোটি টাকা লুট করে এই দেশটাকে আরও হরিভঙ্কুর করে দিয়েছে; সেজন্যে আপনাদেরকে আমরা যথাযথ বেতন দিতে পারি না। তারপরেও যেটুকু পারি অন্তত বেতন তো পান, অন্তত ঘি-ভাত না হলেও ডাল-ভাত তো খান। আপনার দায়িত্ব, আপনার কর্তব্য—এই যে স্কুলে শিক্ষকতা করেন, যে কলেজে শিক্ষকতা করেন, ওই কলেজ এবং স্কুলকে অনেক উন্নত করা, লেখাপড়ার মানকে এমন উন্নত করা যাতে করে একটা বাসাইলের ছাত্রছাত্রী টাঙ্গাইলে না যান, বরং টাঙ্গাইলের ছাত্রছাত্রীরা মনে করে বাসাইলের স্কুল-কলেজ ভালো, বাসাইলেই যাই—সেই অবস্থা তৈরি করতে হবে।

 

​মন্ত্রী বলেন, বাসাইলের একটা সন্তান যেন বখাটে না হয়, বাসাইলে যেন কোনো কিশোর গ্যাং তৈরি না হয়। ওসি সাহেব আছেন, আমি আপনাকে বলব, বাসাইলে যেন কোনো কিশোর গ্যাং বা ছিনতাইকারী গ্যাং তৈরি না হয়। বাসাইলে যেন কোনো রকমের চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি সংঘটিত না হয়। আপনি আছেন, সার্কেল এসপি সাহেব আছেন, দুষ্টের দমনে কঠোর হবেন–আমি কঠোর থাকবো। যে খারাপ সে আমার ভাই-আত্মীয় ও বন্ধু-প্রতিবেশী হোক আমি তাকে চিনি না, তার প্রতি প্রশাসন নিষ্ঠুর হবেন। তেমনি সৃষ্টের পালনে নরম হবেন, বাসাইলবাসীকে ভালোবাসবেন।

 

​তিনি আরও বলেন, আমাদের এই বাসাইলটাকে গড়ে তুলতে হবে। বাসাইলটা বড় বঞ্চিত এলাকা। এই এলাকাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যে, বাসাইলের প্রত্যেকটা স্কুল, প্রত্যেকটা কলেজ, মাদ্রাসা, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেন বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। সেই চেষ্টা করিতে হবে। চেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। বাসাইলে কোনো চাঁদাবাজি থাকবে না, কোনো দখলবাজি থাকবে না, কোনো অন্যায় থাকবে না; কেউ কাউকে কোনো ধরনের অনৈতিকতায় ফাঁকি দেবে না। আসুন, আমরা সকলে মিলে একটা মেধার বাসাইল গড়ে তুলি। সকলে মিলে একটা মেধাবী বাসাইলের সাথে সাথে একটা উন্নত বাসাইল গড়ে তুলি।

 

 

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন— ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন, বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আয়ুব মিয়া, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হীরা মিয়া, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ মোল্লা, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কৃতিছাত্রছাত্রীরা।

 

 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে ১৬২ কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা সনদ, মেধা ক্রেস্ট, কলেজ ব্যাগসহ নানা উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়

 

 

 

                                                        বাসাইল নতুন সংবাদ